Thursday, 30 September 2010
বিখ্যাত ব্যক্তিদের রসাল ঘটনা
লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্র তখন চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর নতুন একটা ছবি মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু ওই ছবির কাহিনী নিয়ে কথা উঠেছে। বুদ্ধদেব গুহ পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছেন যে কাহিনীটি তাঁর, প্রেমেন্দ্র মিত্র যা নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। সবাই উদগ্রীব, প্রেমেন্দ্র মিত্র এখন কী বলেন! কিন্তু প্রেমেন্দ্র মিত্র কিছু বলছেন না। কদিন পর প্রেমেন্দ্র মিত্র বিবৃতি দিলেন। তিনি বললেন, ‘চলচ্চিত্রের কাহিনীটি আমার না সেটা সত্যি, তবে বুদ্ধদেব গুহ যেখান থেকে গল্পটি নিয়েছে, আমিও ওই একই জায়গা থেকে নিয়েছি।’
আদার হাজারো গুণ
‘আদাজল খেয়ে লাগা’ বলে একটা প্রবাদ আছে বাংলা ভাষায়। আদার সমৃদ্ধ খাদ্যমানের কারণেই বিজ্ঞজনেরা এই প্রবাদ প্রচলন করেছিলেন, সন্দেহ নেই। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যতালিকায় আদা একটি অত্যাবশ্যকীয় নাম। রসুইঘর থেকে শুরু করে খেলার মাঠ—সবখানেই বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের শরীরের একাধিক চাহিদা পূরণ করে আসছে এই খাদ্য উপকরণটি। একটু ঠান্ডা লেগে গেলে কিংবা খেলার মাঝে হাঁপিয়ে উঠলে আদা চাই। আদা চাই গরম এক কাপ চায়ের মধ্যে অথবা যেকোনো রান্নায়। মাটির নিচে জন্ম নেওয়া এই মসলাজাতীয় খাবারটিতে আছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। আছে যথেষ্ট পরিমাণ আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ফরফরাসের মতো খনিজ পদার্থ। এ ছাড়া সামান্য পরিমাণে হলেও আছে সোডিয়াম, জিংক ও ম্যাঙ্গানিজ।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আদা থাকলে যেকোনো ধরনের ঠান্ডাসংক্রান্ত রোগবালাই ও হাঁপানির আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাকস্থলীর অনেক সমস্যা থেকেও রেহাই মেলে আদা সেবনে। এ ছাড়া সকালে উঠলে অনেকেরই শরীর ম্যাজম্যাজ করে, কিংবা দুর্বল বোধ করেন। এ ক্ষেত্রেও আদা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আর্থ্রাইটিসের মতো রোগের ক্ষেত্রেও ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে আদা। এ ছাড়া চুল পড়া রোধেও তা বেশ কাজে দেয়। ভিটামিন ‘ই’, ‘এ’, ‘বি৬’ এবং ‘সি’র পরিমাণও কম নয় আদার মধ্যে। এ ছাড়া রক্তের প্লাটিলেট ও কার্ডিওভাসকুলার কার্যক্রম ঠিক রাখতেও তা দারুণ কার্যকর।
মাহফুজ রহমান
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আদা থাকলে যেকোনো ধরনের ঠান্ডাসংক্রান্ত রোগবালাই ও হাঁপানির আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাকস্থলীর অনেক সমস্যা থেকেও রেহাই মেলে আদা সেবনে। এ ছাড়া সকালে উঠলে অনেকেরই শরীর ম্যাজম্যাজ করে, কিংবা দুর্বল বোধ করেন। এ ক্ষেত্রেও আদা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আর্থ্রাইটিসের মতো রোগের ক্ষেত্রেও ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে আদা। এ ছাড়া চুল পড়া রোধেও তা বেশ কাজে দেয়। ভিটামিন ‘ই’, ‘এ’, ‘বি৬’ এবং ‘সি’র পরিমাণও কম নয় আদার মধ্যে। এ ছাড়া রক্তের প্লাটিলেট ও কার্ডিওভাসকুলার কার্যক্রম ঠিক রাখতেও তা দারুণ কার্যকর।
মাহফুজ রহমান
আকাশে ২৬ ঘণ্টা উড়ল সৌরশক্তি-চালিত বিমান
সেদিন আর দূরে নেই, যেদিন রাস্তায় গাড়ি চালাতে, আকাশে বিমান ওড়াতে কোনো জ্বালানি তেল লাগবে না। জ্বালানি তেল ছাড়াই দিব্যি দেখা যাবে, পাখা মেলে আকাশে উড়ছে উড়োজাহাজ, রাস্তায় চলছে মোটরগাড়ি। ইতিমধ্যেই সেই স্বপ্নের প্রাথমিক মহড়া সেরে ফেলেছে সুইজারল্যান্ডের একটি বিমান সংস্থা।
কিছুদিন আগে জ্বালানি ছাড়াই ২৬ ঘণ্টা আকাশে উড়েছে সুইজারল্যান্ডের একটি সৌরবিমান। এটি ২৬ ঘণ্টা সফলভাবে আকাশে ওড়ার পর মাটিতে অবতরণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ওই বিমানটির ২৬ ঘণ্টার যাত্রায় একফোঁটা জ্বালানি তেলও ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি। বিমানটিতে মাত্র একজনের বসার জায়গা ছিল।
তবে এর উদ্ভাবকেরা বলছেন, এখানে পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি এবং বিমান তৈরির জন্য খুবই হালকা পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিমানের পরিবহনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। যে বিমানটির কথা এতক্ষণ বলছিলাম, তার নাম সোলার এমপাল। কীভাবে কাজ করে এটি?
বিমানটির ওজন সাধারণ একটি মোটরগাড়ির সমান। ডানাজোড়া অবশ্য জাম্বো জেটের সমান—আকারে ৬০ মিটার, যেগুলো সৌর প্যানেল দ্বারা আবৃত। একটি-দুটি নয়, ১২ হাজার সৌরকোষ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে একে, যেগুলো সূর্যের আলো থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে এবং বিমানটি আকাশে ভেসে থাকার প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। একটি স্কুটারের সমান শক্তি নিয়ে চলছে বিমানটি। বিবিসির পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিক রজার হারমিন বলেন, বিমানটি সফলভাবে উড়ে নেমে আসতে পেরেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি উড়তে শুরু করার আগে ব্যাটারিতে যে পরিমাণ শক্তি ছিল, এরচেয়ে বেশি শক্তি সঞ্চয় করে ফেরত এসেছে। আর সে কারণে এর উদ্ভাবকেরা বলছেন, আক্ষরিক অর্থে এটি পৃথিবীর মধ্যে প্রথম, যেখানে একটি সৌরবিমান সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। সৌরবিমান হিসেবে এটি সবচেয়ে বেশি উঁচুতে উঠেছে এবং বেশি সময় ধরে উড়েছে—প্রায় ২৬ ঘণ্টা।
বিমানটি সূর্যের আলোর শক্তিতে চলে। রাতের বেলায় বা মেঘলা দিনে এটি কীভাবে চলে? যে বিমানের কথা লেখা হচ্ছে, সেটি একটি সপ্তাহের বুধবার থেকে উড়তে শুরু করে সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে উড়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিমানটি সারা দিন উড়ে রেকর্ড করে। তবে এবার বিমানটির সামনে যে চ্যালেঞ্জ ছিল, তা হলো উড়তে উড়তে রাতের জ্বালানি সংগ্রহ করা এবং অন্তত ২৪ ঘণ্টার জ্বালানি সংগ্রহে রাখা। নামার পরে এটিকে আবার উড়তে হবে, এই পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রাখতে হবে। এটি তা করতে পেরেছে। বলা যায়, একটু বেশিই পেরেছে। অন্যদিকে বিমানের চালককে কিন্তু জেগে থাকতে হয়েছে পুরো ২৬ ঘণ্টা।
বৈমানিকের জন্য এটি ছিল ঝামেলার ব্যাপার। কারণ তাঁকে ২৬ ঘণ্টার বেশি জেগে থাকতে হয়েছে। যদি তিনি সেটা না করতে পারতেন, তাহলে তাঁর মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল। কন্ট্রোল রুম থেকে বিভিন্নভাবে বৈমানিকের ওপর নজর রাখতে হয়েছে। টেলিমিটারি ও ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে যেমন তাঁর ওপর নজর রাখা হচ্ছিল, তেমনি প্রতি মুহূর্তে দেখা হয়েছে, তিনি কী পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করেছেন। পুরো ব্যাপারটি ছিল এমন, যা পুরোপুরি মহাকাশ অভিযাত্রার মতো এবং এটি খুবই বিস্তারিত ও গুরুত্বপূর্ণভাবে করা হয়েছে। এদিকে বিমানটি যখন নামার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে, রানওয়ের চারপাশে উশখুশ করা মানুষেরা উল্লাস করেছে এবং করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে।
তাহলে কি বিমানযাত্রার নতুন ইতিহাস লেখার সময় হলো? সেটি বলা যায় বটে! তাই বলে খুব তাড়াতাড়ি আপনি ওই বিমানে একটি টিকিট কেটে চড়ে বসতে পারছেন এমন নয়। এই বিমান যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁরা এটি প্রমাণ করেছেন যে একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও স্বপ্ন থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।
এই প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যাটকান পিটার বলেন, ‘এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করতে আমরা বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘এই সফলতা আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে। আমরা যদি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাই, আমরা যদি একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি তৈরি করতে চাই, আমরা যদি একটি স্থিতিশীল বিশ্ব তৈরি করতে চাই এবং আমরা যদি ভবিষ্যতের পৃথিবীর মানুষকে কাজ দিতে চাই, তাহলে উচিত হবে এই পরিবেশবান্ধব বিষয়গুলো কাজে লাগানো। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের যে নির্ভরশীলতা আছে তা কমিয়ে আনতে এসব প্রদ্ধতি সাহায্য করবে। আর এ জন্যই আমাদের এতকিছু করা।’
সামনের দিনগুলো
এই বিমানের সঙ্গে যাঁরা কাজ করছেন তাঁরা বলছেন, এরপর তাঁরা আটলান্টিকের ওপর দিয়ে চালাতে চান এই বিমান। আর আগামী তিন বছর পর যখন সৌরশক্তি আরও নিখুঁতভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাওয়া যাবে, তখন তাঁরা এমন একটি বিমানে চড়ে সারা পৃথিবী ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।
কিছুদিন আগে জ্বালানি ছাড়াই ২৬ ঘণ্টা আকাশে উড়েছে সুইজারল্যান্ডের একটি সৌরবিমান। এটি ২৬ ঘণ্টা সফলভাবে আকাশে ওড়ার পর মাটিতে অবতরণ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ওই বিমানটির ২৬ ঘণ্টার যাত্রায় একফোঁটা জ্বালানি তেলও ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি। বিমানটিতে মাত্র একজনের বসার জায়গা ছিল।
তবে এর উদ্ভাবকেরা বলছেন, এখানে পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি এবং বিমান তৈরির জন্য খুবই হালকা পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিমানের পরিবহনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। যে বিমানটির কথা এতক্ষণ বলছিলাম, তার নাম সোলার এমপাল। কীভাবে কাজ করে এটি?
বিমানটির ওজন সাধারণ একটি মোটরগাড়ির সমান। ডানাজোড়া অবশ্য জাম্বো জেটের সমান—আকারে ৬০ মিটার, যেগুলো সৌর প্যানেল দ্বারা আবৃত। একটি-দুটি নয়, ১২ হাজার সৌরকোষ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে একে, যেগুলো সূর্যের আলো থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে এবং বিমানটি আকাশে ভেসে থাকার প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। একটি স্কুটারের সমান শক্তি নিয়ে চলছে বিমানটি। বিবিসির পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিক রজার হারমিন বলেন, বিমানটি সফলভাবে উড়ে নেমে আসতে পেরেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি উড়তে শুরু করার আগে ব্যাটারিতে যে পরিমাণ শক্তি ছিল, এরচেয়ে বেশি শক্তি সঞ্চয় করে ফেরত এসেছে। আর সে কারণে এর উদ্ভাবকেরা বলছেন, আক্ষরিক অর্থে এটি পৃথিবীর মধ্যে প্রথম, যেখানে একটি সৌরবিমান সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। সৌরবিমান হিসেবে এটি সবচেয়ে বেশি উঁচুতে উঠেছে এবং বেশি সময় ধরে উড়েছে—প্রায় ২৬ ঘণ্টা।
বিমানটি সূর্যের আলোর শক্তিতে চলে। রাতের বেলায় বা মেঘলা দিনে এটি কীভাবে চলে? যে বিমানের কথা লেখা হচ্ছে, সেটি একটি সপ্তাহের বুধবার থেকে উড়তে শুরু করে সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে উড়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিমানটি সারা দিন উড়ে রেকর্ড করে। তবে এবার বিমানটির সামনে যে চ্যালেঞ্জ ছিল, তা হলো উড়তে উড়তে রাতের জ্বালানি সংগ্রহ করা এবং অন্তত ২৪ ঘণ্টার জ্বালানি সংগ্রহে রাখা। নামার পরে এটিকে আবার উড়তে হবে, এই পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রাখতে হবে। এটি তা করতে পেরেছে। বলা যায়, একটু বেশিই পেরেছে। অন্যদিকে বিমানের চালককে কিন্তু জেগে থাকতে হয়েছে পুরো ২৬ ঘণ্টা।
বৈমানিকের জন্য এটি ছিল ঝামেলার ব্যাপার। কারণ তাঁকে ২৬ ঘণ্টার বেশি জেগে থাকতে হয়েছে। যদি তিনি সেটা না করতে পারতেন, তাহলে তাঁর মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল। কন্ট্রোল রুম থেকে বিভিন্নভাবে বৈমানিকের ওপর নজর রাখতে হয়েছে। টেলিমিটারি ও ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে যেমন তাঁর ওপর নজর রাখা হচ্ছিল, তেমনি প্রতি মুহূর্তে দেখা হয়েছে, তিনি কী পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করেছেন। পুরো ব্যাপারটি ছিল এমন, যা পুরোপুরি মহাকাশ অভিযাত্রার মতো এবং এটি খুবই বিস্তারিত ও গুরুত্বপূর্ণভাবে করা হয়েছে। এদিকে বিমানটি যখন নামার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে, রানওয়ের চারপাশে উশখুশ করা মানুষেরা উল্লাস করেছে এবং করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে।
তাহলে কি বিমানযাত্রার নতুন ইতিহাস লেখার সময় হলো? সেটি বলা যায় বটে! তাই বলে খুব তাড়াতাড়ি আপনি ওই বিমানে একটি টিকিট কেটে চড়ে বসতে পারছেন এমন নয়। এই বিমান যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁরা এটি প্রমাণ করেছেন যে একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও স্বপ্ন থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।
এই প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যাটকান পিটার বলেন, ‘এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করতে আমরা বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘এই সফলতা আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে। আমরা যদি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে চাই, আমরা যদি একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি তৈরি করতে চাই, আমরা যদি একটি স্থিতিশীল বিশ্ব তৈরি করতে চাই এবং আমরা যদি ভবিষ্যতের পৃথিবীর মানুষকে কাজ দিতে চাই, তাহলে উচিত হবে এই পরিবেশবান্ধব বিষয়গুলো কাজে লাগানো। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর আমাদের যে নির্ভরশীলতা আছে তা কমিয়ে আনতে এসব প্রদ্ধতি সাহায্য করবে। আর এ জন্যই আমাদের এতকিছু করা।’
সামনের দিনগুলো
এই বিমানের সঙ্গে যাঁরা কাজ করছেন তাঁরা বলছেন, এরপর তাঁরা আটলান্টিকের ওপর দিয়ে চালাতে চান এই বিমান। আর আগামী তিন বছর পর যখন সৌরশক্তি আরও নিখুঁতভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাওয়া যাবে, তখন তাঁরা এমন একটি বিমানে চড়ে সারা পৃথিবী ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।
বিবিসি বাংলা
অহেতুক কৌতুক
চিকিৎসক তাঁর রোগীকে হার্টের পরীক্ষা করাতে দিয়েছেন প্রায় গোটা পাঁচেক। রোগী সব পরীক্ষা সেরে রিপোর্ট নিয়ে এল চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে। চিকিৎসক রিপোর্ট দেখে বললেন, ‘নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনি যত দিন বাঁচবেন, আপনার হার্ট তত দিন ঠিকঠাক কাজ করে যাবে।’
প্রথম বন্ধু: তোর বউ শেষ পর্যন্ত ড্রাইভারের সঙ্গে চলে গেল? ভাবতেই খারাপ লাগছে!
দ্বিতীয় বন্ধু: আরে তাতে কী? বিপদের কথা ভেবে আমি আগেভাগেই ড্রাইভারের কাছ থেকে গাড়ি চালানোটা শিখে রেখেছি।
প্রথম বন্ধু: পা খোঁড়া কুকুরকে কী বলে ডাকা যায়?
দ্বিতীয় বন্ধু: যা খুশি ডাক, তাতে কিছু যায়-আসে না, ডাক শুনে ও তো আর চার পায়ে দৌড়ে চলে আসবে না।
# উকিল: গাড়িটা যখন অ্যাকসিডেন্ট করল, তখন আপনি কত দূরে ছিলেন?
সাক্ষী: ৩০ ফুট ১১ ইঞ্চি দূরে ছিলাম।
উকিল: এত নিখুঁত মাপ বলছেন কী করে?
সাক্ষী: জানতাম, কোনো একটা বেকুব আমাকে এই প্রশ্নটা করবেই।
# পুলিশ সার্জেন্ট: আপনাদের গাড়ির কোনো হেডলাইট নেই, দুই পাশের আয়না ভাঙা, হর্ন নেই, জানালার কাচ ভাঙা, ব্যাকলাইট নষ্ট, ব্রেক ধরে না, আপনারা কেউই সিটবেল্ট বাঁধেননি, তার পরও এত জোরে গাড়ি চালাচ্ছেন... বিষয়টা কী?
ড্রাইভার: স্যার, আমার কোনো দোষ নেই, সব দোষ এই ব্যাটার। ওরে আমি আগেই কইছিলাম, এই ভাঙাচোরা গাড়ি চুরি করার কোনো দরকার নেই।
# বাড়ির মালিক: তোমাকে যে নাইটগার্ডের চাকরি দেব, তোমার যোগ্যতাটা কী, শুনি?
নাইটগার্ড: আমি, স্যার, সামান্য গোলমালেই জেগে উঠি।
প্রথম বন্ধু: তোর বউ শেষ পর্যন্ত ড্রাইভারের সঙ্গে চলে গেল? ভাবতেই খারাপ লাগছে!
দ্বিতীয় বন্ধু: আরে তাতে কী? বিপদের কথা ভেবে আমি আগেভাগেই ড্রাইভারের কাছ থেকে গাড়ি চালানোটা শিখে রেখেছি।
প্রথম বন্ধু: পা খোঁড়া কুকুরকে কী বলে ডাকা যায়?
দ্বিতীয় বন্ধু: যা খুশি ডাক, তাতে কিছু যায়-আসে না, ডাক শুনে ও তো আর চার পায়ে দৌড়ে চলে আসবে না।
# উকিল: গাড়িটা যখন অ্যাকসিডেন্ট করল, তখন আপনি কত দূরে ছিলেন?
সাক্ষী: ৩০ ফুট ১১ ইঞ্চি দূরে ছিলাম।
উকিল: এত নিখুঁত মাপ বলছেন কী করে?
সাক্ষী: জানতাম, কোনো একটা বেকুব আমাকে এই প্রশ্নটা করবেই।
# পুলিশ সার্জেন্ট: আপনাদের গাড়ির কোনো হেডলাইট নেই, দুই পাশের আয়না ভাঙা, হর্ন নেই, জানালার কাচ ভাঙা, ব্যাকলাইট নষ্ট, ব্রেক ধরে না, আপনারা কেউই সিটবেল্ট বাঁধেননি, তার পরও এত জোরে গাড়ি চালাচ্ছেন... বিষয়টা কী?
ড্রাইভার: স্যার, আমার কোনো দোষ নেই, সব দোষ এই ব্যাটার। ওরে আমি আগেই কইছিলাম, এই ভাঙাচোরা গাড়ি চুরি করার কোনো দরকার নেই।
# বাড়ির মালিক: তোমাকে যে নাইটগার্ডের চাকরি দেব, তোমার যোগ্যতাটা কী, শুনি?
নাইটগার্ড: আমি, স্যার, সামান্য গোলমালেই জেগে উঠি।
লুই আই কানের কিছু বিখ্যাত কাজ
# ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় আর্ট গ্যালারি—নিউ হ্যাভেন, কানেকটিকাট (১৯৫১—৫৩)
# রিচার্ড মেডিকেল রিসার্চ ল্যাবরেটরি— পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ফিলাডেলফিয়া (১৯৫৭—৬৫)
# সল্ক ইনস্টিটিউট—লা জোলা, ক্যালিফোর্নিয়া (১৯৫৯—৬৫)
# প্রথম ইউনিটারিয়ান চার্চ—রোচেস্টার, নিউইয়র্ক (১৯৫৯—৬৯)
# ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট— আহমেদাবাদ, ইন্ডিয়া (১৯৬২)
# ফিলিপ্স একাডেমি লাইব্রেরি—এক্সিটর, নিউ হ্যাম্পশায়ার (১৯৬৫—৭২)
# কিম্বেল আর্ট জাদুঘর—ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস (১৯৬৬—৭২)
# ইয়েল সেন্টার ফর ব্রিটিশ আর্ট—ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ হ্যাভেন, কানেকটিকাট (১৯৬৯—৭৪)
স্থপতি লুই কান ও সংসদ ভবন
আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন। স্থাপত্যের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘মাস্টার পিস’—বিশ্বের সেরা কয়েকটি স্থাপত্যের একটি। এটি আমদের গর্ব। আমাদের অহংকার ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। আর এই বিশ্বসেরা স্থাপত্য যাঁর হাত ধরে সৃষ্টি, তিনি হলেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুইস আই কান বা লুই আই কান। লুই কানের জন্ম ১৯০১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাশিয়ার এস্তোনিয়ায়।
১৯২৪ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লুই কান স্নাতক ডিগ্রি নেন। তারপর ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর নানা প্রান্তে। কাজ করেন জন মলিটর, জর্জ হুই, অস্কার স্টনোরোভর মতো তৎকালীন নামকরা স্থপতিদের সঙ্গে। প্রথম দিকে লুই কান আন্তর্জাতিক মানের কাজ করলেও তাঁর নিজস্ব কোনো স্টাইল ছিল না। বয়স ৫০ পেরোনোর পর তিনি শুরু করেন সম্পূর্ণ নিজের ধরনের কাজ। জন্ম দেন একের পর এক নামকরা স্থাপত্য, যার শেষের দিকের নিদর্শন আমাদের সংসদ ভবন। যে স্থাপত্য লুই কানকে স্থান দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। বাংলাদেশের তো বটেই, বিশ্বেরও।
জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। এটিকে তখন পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ ভবন হিসেবে ভাবা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর তা পরিণত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে। ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হয় এর নির্মাণকাজ। একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম ও শেষ অধিবেশনে হয় এর উদ্বোধন। লুই কান এই বিশ্বসেরা স্থাপত্যের স্থপতি হলেও সর্বপ্রথম এই জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি স্থপতি মাজহারুল ইসলাম। বড় মাপের মানুষের মনও যে বড় হয়, স্থপতি মাজহারুল ইসলাম তা আবারও প্রমাণ করেছেন। তিনি ছিলেন লুই কানের প্রিয় ছাত্রদের একজন। তিনিই লুই কানকে এ দেশে এনেছিলেন এবং সংসদ ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। তাঁর প্রিয় শিক্ষকই পারবেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করতে—এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের মতো একটি বিশ্বসেরা স্থাপত্য।
সংসদ ভবনের পুরো কমপ্লেক্সের নকশাটিই লুই কানের করা। কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝখানে স্থাপিত মূল ভবনটি। এ ছাড়া কমপ্লেক্সজুড়ে আছে লন, লেক ও এমপি হোস্টেল। কমপ্লেক্সটির চারপাশ দিয়ে গেছে চারটি প্রধান সড়ক। মূল ভবনটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত—প্রধান প্লাজা, দক্ষিণ প্লাজা ও রাষ্ট্রীয় প্লাজা। লেকটি যাতে নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে, সেই দিকটি বিবেচনা করেছেন লুই কান। এটি লুই কানের এমনি এক সৃষ্টি, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়। এটি আধুনিক ও কালোতীর্ণ। লুই কান তাঁর এই অমর সৃষ্টিতে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার করেছেন বিস্ময়করভাবে। তিনি এই ভবনে বৃত্ত, অর্ধবৃত্ত, বর্গ, ত্রিভুজের কাঠামোগুলো দিয়ে একটি নতুন স্বাধীনতার আদর্শের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন। তিনি পেরেছেনও। তাঁর হাত ধরেই জন্ম নিয়েছে একটি স্বাধীন দেশের নতুন দিনের আশার আলোকরেখা।
১৯৭৪ সালে পেনসিলভানিয়ার এক রেলস্টেশনে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান লুই কান। তিনি বেঁচে নেই ঠিকই, কিন্তু তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন চিরকাল। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন থাকবে জাতীয় সংসদ ভবন। আর সংসদ ভবন ধারণ করে রাখবে তার স্থপতির নাম।
১৯২৪ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লুই কান স্নাতক ডিগ্রি নেন। তারপর ঘুরে বেড়ান পৃথিবীর নানা প্রান্তে। কাজ করেন জন মলিটর, জর্জ হুই, অস্কার স্টনোরোভর মতো তৎকালীন নামকরা স্থপতিদের সঙ্গে। প্রথম দিকে লুই কান আন্তর্জাতিক মানের কাজ করলেও তাঁর নিজস্ব কোনো স্টাইল ছিল না। বয়স ৫০ পেরোনোর পর তিনি শুরু করেন সম্পূর্ণ নিজের ধরনের কাজ। জন্ম দেন একের পর এক নামকরা স্থাপত্য, যার শেষের দিকের নিদর্শন আমাদের সংসদ ভবন। যে স্থাপত্য লুই কানকে স্থান দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। বাংলাদেশের তো বটেই, বিশ্বেরও।
জাতীয় সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। এটিকে তখন পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ ভবন হিসেবে ভাবা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর তা পরিণত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে। ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি শেষ হয় এর নির্মাণকাজ। একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম ও শেষ অধিবেশনে হয় এর উদ্বোধন। লুই কান এই বিশ্বসেরা স্থাপত্যের স্থপতি হলেও সর্বপ্রথম এই জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি স্থপতি মাজহারুল ইসলাম। বড় মাপের মানুষের মনও যে বড় হয়, স্থপতি মাজহারুল ইসলাম তা আবারও প্রমাণ করেছেন। তিনি ছিলেন লুই কানের প্রিয় ছাত্রদের একজন। তিনিই লুই কানকে এ দেশে এনেছিলেন এবং সংসদ ভবনের নকশা তৈরির দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। তাঁর প্রিয় শিক্ষকই পারবেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করতে—এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের মতো একটি বিশ্বসেরা স্থাপত্য।
সংসদ ভবনের পুরো কমপ্লেক্সের নকশাটিই লুই কানের করা। কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝখানে স্থাপিত মূল ভবনটি। এ ছাড়া কমপ্লেক্সজুড়ে আছে লন, লেক ও এমপি হোস্টেল। কমপ্লেক্সটির চারপাশ দিয়ে গেছে চারটি প্রধান সড়ক। মূল ভবনটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত—প্রধান প্লাজা, দক্ষিণ প্লাজা ও রাষ্ট্রীয় প্লাজা। লেকটি যাতে নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে, সেই দিকটি বিবেচনা করেছেন লুই কান। এটি লুই কানের এমনি এক সৃষ্টি, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়। এটি আধুনিক ও কালোতীর্ণ। লুই কান তাঁর এই অমর সৃষ্টিতে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার করেছেন বিস্ময়করভাবে। তিনি এই ভবনে বৃত্ত, অর্ধবৃত্ত, বর্গ, ত্রিভুজের কাঠামোগুলো দিয়ে একটি নতুন স্বাধীনতার আদর্শের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন। তিনি পেরেছেনও। তাঁর হাত ধরেই জন্ম নিয়েছে একটি স্বাধীন দেশের নতুন দিনের আশার আলোকরেখা।
১৯৭৪ সালে পেনসিলভানিয়ার এক রেলস্টেশনে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান লুই কান। তিনি বেঁচে নেই ঠিকই, কিন্তু তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন চিরকাল। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন থাকবে জাতীয় সংসদ ভবন। আর সংসদ ভবন ধারণ করে রাখবে তার স্থপতির নাম।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
যশোর রোড: আন্দোলনের অনন্ত প্রেরণা
আমার ইচ্ছা ছিল, বব ডিলানকে চমকে দিয়ে একটা গান লিখব। অনেকটা উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামসের ‘স্যাড-আইড লেডি অব দ্য লো ল্যান্ডস’-এর মতো লম্বা কোনো গান, যা প্রকৃতির সৌন্দর্য আর মানবিক আকুতি জাগাবে, যা ডিলানকে ভাবাবে, কাঁদাবে। আমি তা-ই লিখতে চেষ্টা কলাম। সম্প্রতি কলকাতা ঘুরে লাখ লাখ মানুষের সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট দেখে আমার যে অনুভূতি তৈরি হয়েছে, তা-ই লিখলাম। কলকাতার ভাষা আর সংগীতের মিশ্রণে সেটাকে গানে রূপ দিলাম ভারতীয় হারমোনিয়াম সহযোগে। সে সময়ে দেখা মানুষগুলোর অন্তহীন যাতনা আমাকে নির্বাক করেছিল। সব বয়সের মানুষের বেঁচে থাকার কষ্ট আমার বুকে চেপে বসে ছিল। সেই যাতনা হূদয়ে নিয়েই আমি লিখেছিলাম ‘যশোর রোড’ কবিতা। আমি মূলত ভারতীয় বজ্র গুরু মন্ত্র নামের বৌদ্ধ সুরের সঙ্গে ‘ব্ল্যাক’-এর গাওয়া ‘ওয়ান অ্যানাদারস সরো’র অন্ত্যমিলের সমন্বয়ে যশোর গাওয়ার চেষ্টা করলাম। ডিলান আমার এই লেখা পড়ে দেখার জন্য নিলেন। পরদিন তিনি যখন সেটি ফেরত দিলেন তখন বললেন, ‘আমি না কেঁদে পারিনি।’ আমরা পরে এ গানের সুর ও সংগীত প্রযোজনার উদ্যোগ নিলাম। কিন্তু বব প্রথম দিকে কিছুতেই পাশ্চাত্যের হারমোনিয়ামের সঙ্গে গিটারের সমন্বয় করতে পারছিলেন না। আমি অবশ্য তাঁকে বলেছিলাম, এ গান বোধহয় ব্লুজের সুরে হবে, যদিও তাঁর কাছ থেকে ব্লুজ সম্পর্কে তখনো আমি শিখছিলাম। বব বারবার তাঁর গিটার টিউন করছিলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। অনেকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন, আর এদিকে আমি একটানা গানটি গেয়েই যাচ্ছিলাম। বব একটানা গিটারে সুর তোলার চেষ্টা করেই গেলেন যতক্ষণ না তাঁর হাত ব্যথা হয়। পরে ডিলান অন্য একটি গিটার আনলেন, পিয়ানো বাদ দিলেন এবং গানের বিভিন্ন অন্তরায় ড্রাম বাজাতে শুরু করলেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ছিল দশ আঙুলে ডিলানের জাদুকরী গিটার বাজানো। সময় সময় তিনি থামছিলেন ঠিক যেখানে থামা উচিত; আবার শুরু করছিলেন। শেষমেশ গানটি দাঁড়াল। পরে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ডেট্রয়েটে আমরা কবি ‘জন সিনক্লেয়ারের মুক্তি চাই’—এ দাবিতে আয়োজিত শোভাযাত্রায় যশোর রোড গানটি গাই। জন সিনক্লেয়ার ছিলেন মার্কিন কবি ও সাংবাদিক। বিকল্প রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এ শোভাযাত্রার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন জন লেনন ও তাঁর স্ত্রী ইয়োকো ওনো। আমরা শোভাযাত্রায় পুরো গানটিই গাই এবং আমাদের সঙ্গে সেদিন গিটার বাজিয়েছিলেন গ্রে গেটজ। আমাদের গান গাওয়ার সময়ে লেনন ছিলেন ড্রেসিং রুমে। এ কারণে তিনি গানটি শুনতে পারেননি। পরে যখন আমরা তাঁর সঙ্গে হোটেলে দেখা করি, তখন গ্রেটজ ও আমি তাঁকে গানটি গেয়ে শোনাই। লেনন মুগ্ধ হয়েছিলেন।
আখতার জামান
সূত্র: ডিলান ১০, বসন্ত সংখ্যা (কবিতা ও গানের খবরাখবর নিয়ে বব ডিলানের প্রকাশনা)
Subscribe to:
Posts (Atom)


